অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল: মামলার পরও হুমকি-ধমকিতে বিপর্যস্ত পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার
বৃহস্পতি, 31.07.2025 - 01:34 PM
Share icon
Image

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের হাসধরা গ্রামে এক গৃহবধূর নগ্ন ছবি ও ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত দুই বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হলেও তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং মামলা করার ‘শাস্তি’ হিসেবে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীর বড় ভাই মো. রুমান মিয়া জানান, “গত ফেব্রুয়ারিতে গোসল করার সময় আমার বোনের ব্যক্তিগত মুহূর্তের নগ্ন ভিডিও গোপনে ধারণ করে প্রতিবেশী সাইম ও আরিফ। এরপর তারা আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। না মানায় তারা ভিডিওটি প্রথমে ফেসবুকে ভাইরাল করে দেয়।”

ভিডিও ভাইরালের পর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে আপাতত ভিডিওটি ডিলিট করে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা হয়। কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা হয়নি। সম্প্রতি একই ভিডিও আবারো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সাইম ও আরিফের বিরুদ্ধে।

রুমান মিয়া বলেন, “দ্বিতীয়বার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আমি প্রতিবাদ করতেই তারা ও তাদের পরিবারের লোকজন আমাকে ও আমার পরিবারকে খুন করার হুমকি দেয়। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বেশি বাড়াবাড়ি করলে আরও অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেবে ইমো ও টিকটকে।”

ঘটনার পর ৩০ জুলাই শ্রীবরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বরং আসামিপক্ষ মামলা তুলে নিতে নানা কৌশলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

এ নিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হাসধরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, “এটা কেবল একজন নারীর নয়, আমাদের সমাজের সম্মানের প্রশ্ন। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালে অন্যদের সাহস আরও বাড়বে।”

স্থানীয় নারী সমাজকর্মী রুবিনা খাতুন বলেন, “একজন নারীর ওপর এমন নির্লজ্জ নির্যাতন সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

শ্রীবরদী থানার ওসি মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, “আমরা মামলা গ্রহণ করেছি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”

এদিকে, একাধিক ফেসবুক আইডি, ইমো ও টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ায় পুরো পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী নারী ও তার স্বজনরা।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর দাবী, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না হলে এ ধরনের অপরাধ রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Share icon