শেরপুরে নদ-নদী দখল ও দূষণ বন্ধের দাবি গ্রীন ভয়েসের
স্টাফ রিপোর্টার॥ শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র নদসহ জেলার সব নদ-নদী ও জলাভূমি দখল ও দূষণমুক্ত করে নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস।
বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের কাছে স্মারকলিপি দেন গ্রীন ভয়েস শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি রফিক মজিদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফুর রহমান। এ সময় সংগঠনের সদস্য কাজী মাসুম, মেহেদী হাসান শামীম, আমিনুল ইসলাম রাজু ও মো. আরিফ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার নদ-নদীর সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নদী ও নদীতীরে বর্জ্য ও দূষিত পানি ফেলা বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি খাল-বিল ও জলাভূমি দখল-ভরাট বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দখল হওয়া জলাধার পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, জীববৈচিত্র্য ও নদীপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা এবং নদী রক্ষায় প্রশাসন, স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, শেরপুরের নদ-নদী ও জলাভূমি রক্ষা এবং দখল ও দূষণ প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গ্রীন ভয়েস শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি রফিক মজিদ বলেন, “নদী ও জলাভূমি রক্ষা করা না গেলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। তাই দখল ও দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
সাধারণ সম্পাদক মো. মারুফুর রহমান বলেন, “নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়; এর সঙ্গে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।”
গ্রীন ভয়েসের নেতৃবৃন্দ বলেন, নদী রক্ষা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থও জড়িত। তাই শেরপুরের নদ-নদী ও জলাভূমি রক্ষায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।
