ঝিনাইগাতীতে জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি
বৃহস্পতি, 13.08.2026 - 08:25 PM
Share icon
Image

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার রামেরকুড়া এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হাবিবুর রহমান হাবি মাস্টার ও উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরেফিন সোহাগের পক্ষ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, মামলা, হয়রানি ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলেছে।

হাবিবুর রহমান হাবি মাস্টারের পক্ষের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রামেরকুড়া মৌজার ১৩০ ও ১৩১ নম্বর দাগের ৩০ শতাংশ জমিতে নির্মিত মার্কেটটি দীর্ঘদিন ধরে তারা বৈধ মালিকানা ও রেকর্ডের ভিত্তিতে ভোগদখল করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, আরেফিন সোহাগের নেতৃত্বে লোকজন নিয়ে মার্কেটটি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি রাতে মার্কেট দখলের চেষ্টা এবং পাঁচটি দোকানের তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।

তাদের দাবি, জমির মালিকানা ও ভোগদখলের পক্ষে রেকর্ড, দলিল, মামলার ডিক্রি ও চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। ১২৩ নম্বর দাগের আরআর ও বিআরএস রেকর্ডের মধ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আরেফিন সোহাগ বলেন, ২০১১ সালে তাঁর বাবা মো. শাহ আলম রামেরকুড়া মৌজার বিআরএস ১২৩ নম্বর দাগ থেকে ১ দশমিক ১৮ শতাংশ জমি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। ২০২০ সাল পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আরেফিন সোহাগের অভিযোগ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হওয়ার পর থেকেই তাকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জমি নিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, একটি অস্ত্র মামলাসহ তাদের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ডাকাতি মামলায় তিনি ও পরিবারের ১০ সদস্য সাত দিন কারাগারে ছিলেন এবং পরে জামিনে মুক্ত হন।

তিনি বলেন, হাবি মাস্টারদের দাবিকৃত ১৩০ ও ১৩১ নম্বর দাগের ৩০ শতাংশ জমির ওপর তাদের কোনো দাবি নেই। বরং ১২৩ নম্বর দাগের বৈধভাবে কেনা জমি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে মামলা ও হয়রানি করা হচ্ছে।

উভয় পক্ষই জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও রেকর্ড যাচাই করে সরেজমিনে পরিমাপের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

Share icon