ঝিনাইগাতীতে বিয়ে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ
মোহাম্মদ দুদু মল্লিক, (শেরপুর) ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি: শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিয়ে বাড়িতে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সেলিনা (৩৫) নামে এক নারী। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার দক্ষিণ ডেফলাই বেদেপল্লীতে এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিনা বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তিনি, তার ছেলে, ছোট বোনের স্বামী ও বাবাসহ পরিবারের কয়েকজনকে মারধর করা হয়।
সেলিনার অভিযোগ, ১২ আগস্ট রাতে তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে কয়েকজনের কথা কাটাকাটি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন নেতৃবৃন্দ বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেন। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পর ১৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ১৪-১৫ জন ব্যক্তি চাপাতি, ছুরি, লোহার শাবল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার ছেলেকে মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে। এতে তার ছেলের কপালের বাম পাশে গুরুতর জখম হয়। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। তার ছোট বোনের স্বামীকে লোহার শাবল দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করা হলে তিনি সরে যাওয়ায় শাবলের আঘাত পায়ের বুড়ো আঙুলে লাগে। এ সময় তার বাবাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন সেলিনা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার ছেলের হাত থেকে দুটি স্বর্ণের আংটি ও একটি স্বর্ণের ব্রেসলেট নিয়ে যাওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার গলায় থাকা প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র, হাঁড়ি-পাতিল, ট্রাংক এবং বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া করা ডেকোরেটরের বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করেছে বলেও অভিযোগ করেন সেলিনা।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করলে তারা রক্ষা পান বলে জানান তিনি। আহতদের মধ্যে দুজনকে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিনা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সেলিনার করা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হবে।
