শ্রীবরদীতে ৫৫ বছরেও সোমেশ্বরী নদীতে সেতু নেই, দুর্ভোগে ১৫ হাজার মানুষ

মোহাম্মদ দুধু মল্লিক: ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি:
শনি, 10.10.2026 - 05:04 PM
Share icon
Image

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বালিঝুড়ি গ্রাম। সীমান্তের ওপারে ভারতের পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদীটি এ গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নদীটির ওপর নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী সেতু। ফলে বালিঝুড়িসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বেড়ে গেলে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, নদীটির ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হলেও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞ দল প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। এতে প্রকল্পটির কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সোমেশ্বরী নদীর কারণে গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা খাড়ামোড়া, রাঙাজান, কোচপাড়া, তাওয়াকুচা ও বালিঝুড়ি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। এসব গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে সেতুটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং নিরাপদ চলাচল, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদী পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থে বাঁশ-কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন তারা। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে সেটি বছরে একাধিকবার ভেঙে যায়। তখন নৌকায় অথবা বুকসমান পানিতে নেমে নদী পার হতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষার্থী, কৃষক ও অসুস্থ রোগীদের।

এলাকার বিএনপি নেতা গোলাপ হোসেন বলেন, নদীতে সেতু না থাকায় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে এসব সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বর্ষায় পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে অস্থায়ী সাঁকোটি তলিয়ে যায়। এতে নদীর দুই পাড়ের যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুল-কলেজে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পারাপার করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। দীর্ঘদিনের এ পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জানান তারা।

শ্রীবরদী উপজেলা প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ‘হান্ড্রেড মিটার’ প্রকল্পের আওতায় একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। এ কারণে বর্তমানে প্রকল্পটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে চলে আসা এ দুর্ভোগের বিষয়টি সেতুমন্ত্রী, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটি নির্মিত হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Share icon