জরাজীর্ণ শাহ কামাল (র.) মাজার ও মসজিদ, সংস্কারের দাবি
জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর : শেরপুর সদর উপজেলার কসবা কাচারীপাড়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহ কামাল (র.) মাজার শরীফ ও মাজারসংলগ্ন মসজিদ দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের বিভিন্ন উদ্যোগ ও ঘোষণা থাকলেও এখন পর্যন্ত মসজিদটির পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হয়নি। এতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, মাজারের ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেরপুরের ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক হিসেবে পরিচিত হযরত শাহ কামাল (র.)-এর মাজারটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও দর্শনীয় স্থানগুলোর একটি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিবছর অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী এখানে আসেন। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মাজারসংলগ্ন বিভিন্ন অবকাঠামোও বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, মাজারসংলগ্ন মসজিদটির উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বিএনপি সরকারের আমলে। সে সময় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আগের ভিত্তিপ্রস্তর অপসারণ করে নতুন করে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু এরপরও মসজিদের মূল নির্মাণকাজ আর এগোয়নি।
বর্তমানে টিনের ছাপড়া দিয়ে কোনোরকমে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় নামাজের সময় মুসল্লিদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে জুমার নামাজ ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মুসল্লির সমাগম হলে জায়গার সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে মসজিদ নির্মাণের কথা বলা হলেও বাস্তবে কাজ শুরু হয়নি। বারবার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ঘোষণা দেওয়ার পরিবর্তে এবার যেন কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে স্থায়ীভাবে মসজিদ নির্মাণ করা হয়-এটাই তাদের প্রত্যাশা।
এলাকাবাসী ও মাজারের ভক্তদের দাবি, শুধু মসজিদ নির্মাণ নয়, পুরো মাজার কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কারও জরুরি। মাজারের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এখানে আধুনিক ও দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে ধর্মীয় পর্যটনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু করে শাহ কামাল (র.) মাজারের সার্বিক সংস্কার ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক। জেলার অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে এ বিষয়ে আর বিলম্ব না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
